ব্রেকিং নিউজ
একের পর এক অ্যাডহক কমিটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বাড়ছে দলীয়করণের অভিযোগ সাঁথিয়ায় মব সৃষ্টি করে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ মধ্যরাতে মনিরা শারমিনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস, বাকশাল নিয়ে কড়া মন্তব্য তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ, আবেগঘন বার্তা ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের সাভার আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারে চাঞ্চল্য, তদন্তে সাইফুলের যোগসূত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন
×

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬/৮/২০২৬, ৯:৪৮:৩০ AM

একের পর এক অ্যাডহক কমিটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বাড়ছে দলীয়করণের অভিযোগ

দেশের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগুলো পরিচালনায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনের ক্ষেত্রে ভোটের মাধ্যমে শিক্ষক-অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের নিয়ম রয়েছে। তবে নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেই নির্বাচন হচ্ছে না। এর পরিবর্তে একের পর এক গঠন করা হচ্ছে অ্যাডহক কমিটি।

দেশের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগুলো পরিচালনায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনের ক্ষেত্রে ভোটের মাধ্যমে শিক্ষক-অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের নিয়ম রয়েছে। তবে নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেই নির্বাচন হচ্ছে না। এর পরিবর্তে একের পর এক গঠন করা হচ্ছে অ্যাডহক কমিটি। এমনকি জরুরি পরিস্থিতির বিধান ব্যবহার করে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ও বিশেষ পরিস্থিতির কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে গভর্নিং বডি নির্বাচনের আয়োজন করা হলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, অনির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণসহ নানা জটিলতা বাড়ছে।এদিকে দেশের সব দাখিল ও আলিম মাদরাসার মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটি বাতিল করে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত সব প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে জানানো হয়েছে। নিয়মিত কমিটির পরিবর্তে দীর্ঘদিন অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রমতে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন প্রক্রিয়া অনেকটা থমকে যায়। কিছু প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হলেও সেখানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।তখন এসব কমিটিতে স্থান পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুসারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি উঠলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর সুযোগে ছয় মাস মেয়াদি অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি দখল নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবারও অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এমনকি প্রবিধানমালার বিশেষ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কমিটি গঠনেরও খবর পাওয়া গেছে।এ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবক নেতারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত নির্বাচিত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

সূত্রমতে, গত ২৫ জুলাই রাজধানীর সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটের আগের রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ও গভর্নিং বডি নির্বাচনের প্রার্থীরা। তবে ওই নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি।অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ছয় মাস পর অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের নিয়মিত কমিটি গঠনের দিকে যেতেই হবে। ২০২৪ সালের সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সংশোধনীর আলোকে সমন্বিতভাবে একটি প্রবিধানমালা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

মাদরাসার মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটি বাতিল

এদিকে গত ২ আগস্ট মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার এসএম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে অ্যাডহক কমিটি বাতিলের নির্দেশনার কথা জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের গত ৩০ জুলাইয়ের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল ও আলিম স্তরের বেসরকারি মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি) প্রবিধানমালা, ২০২৫-এর প্রবিধি ৬৪ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর আওতায় মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটিসহ দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল করা হয়েছে।একই সঙ্গে দ্রুত অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমতি নিয়ে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল ও আলিম স্তরের বেসরকারি মাদরাসার গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ (সংশোধিত)-এর প্রবিধান ৬৪-এর উপপ্রবিধান (৩) প্রতিস্থাপিত হবে।সে অনুযায়ী মাদরাসার সভাপতি মনোনয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে তিনজনের একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। ওই তালিকায় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, খ্যাতিমান সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি অথবা কর্মরত কিংবা অবসরপ্রাপ্ত নবম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার সরকারি কর্মচারীদের নাম রাখা যাবে।তালিকাটি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে। তবে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত মাদরাসার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধান বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডে প্রস্তাব পাঠাবেন।

চিঠিটি দেশের সব মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার, প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৩০ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটি বাতিল করে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়।এভাবে অ্যাডহক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ভিন্নমতের ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে একটি মহল নিজেদের পছন্দের লোকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

এ বিষয়ে রাজধানীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, অ্যাডহক কমিটিতে প্রতিষ্ঠানের যথাযথ কল্যাণ হয় না। এতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় তাদের মতামত যথাযথভাবে উঠে আসে না। একটানা অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত নিয়মিত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বলেন, দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং এমন কোনো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়নি, যাতে অ্যাডহক বা বিশেষ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন হয়।তিনি বলেন, অ্যাডহক কমিটির মূল উদ্দেশ্য হলো নিয়মিত কমিটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু এখন বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচন দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।